ফ্যাসিস্টের প্রত্যাবর্তন এবং নির্বাচিত সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক গভীর ও বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের মতো ভয়ংকর লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে পুরো স্বাস্থ্য সেক্টর গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি কুচক্রি মহল। এই সিন্ডিকেটের প্রধান মদদদাতা হিসেবে খোদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নাম উঠে এসেছে। যা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারে ভেতরে অবস্থান করে সরকারেরই নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান এবং মন্ত্রীর সংস্কার কার্যক্রম রুখে দিতে গুপ্ত আওয়ামী-জামায়াতপন্থী চিকিৎসক ও মেডিকেল ডায়াগনস্টিক মালিকরা এখন একাট্টা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের ওপর ভয়ংকর লোলুপ দৃষ্টি ও ফ্যাসিবাদের ছায়া:
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের সিন্ডিকেট ও লুটপাটের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে বর্তমান স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণী মহলের একটি অংশ বেপরোয়া । সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং যত্রতত্র ডায়াগনস্টিক ও প্রাইভেট ক্লিনিক বাণিজ্যের লাগাম টানতে যখন বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি ছায়ায় এই সিন্ডিকেট স্বাস্থ্য খাতের ওপর ভয়ংকর থাবা বসিয়েছে। ফ্যাসিস্টদের অনুসারী সেই পুরোনো শক্তিগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে।
চিকিৎসকদের উসকে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার:
প্রতিমন্ত্রী নিজে একজন চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে সেই পেশাগত পরিচয় ও প্রভাবকে নগ্নভাবে অপব্যবহার করছেন। তিনি পেশাজীবী সংগঠনের কতিপয় নেতা, বিশেষ করে গুপ্ত জামায়াতপন্থী এবং ফ্যাসিবাদের দোসর চিকিৎসকদের সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি লেলিয়ে দিয়েছেন। এই চিকিৎসকদের একটি বিরাট অংশ বিভিন্ন লাভজনক প্রাইভেট হাসপাতাল ও মেডিকেল ডায়াগনস্টিক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। সরকারি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও সেবা ব্যাহত করে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করতে এবং সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি সাধারণ চিকিৎসকদের দাঁড় করিয়ে দিতে এক অভিনব অপকৌশল চালানো হচ্ছে।
শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান:
একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েও মন্ত্রীর সমালোচনা এবং সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ধৃষ্টতা ও স্পর্ধা কোত্থেকে আসছে তা নিয়ে আজ সর্বত্র প্রশ্ন উঠেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক শিষ্টাচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর অনুসারী চক্রটি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষোদগার ও প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ভেতরে থেকে সরকারবিরোধী এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের পেছনে রয়েছে কোটি কোটি টাকার ডায়াগনস্টিক বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি।
ফ্যাসিস্ট প্রত্যাবর্তন ও গোপন ষড়যন্ত্রের জাল:
চলতি ডিসেম্বর মাসের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় এই চক্রটি আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনর্বাসন এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পিনাকী-ইলিয়াসের মতো বিদেশে পলাতক বিতর্কিত ইউটিউবারদের সাথে যোগাযোগ রেখে এই সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। পেইড বট বাহিনী ও সাইবার সেল পরিচালনা করতে এই চক্রটি বড় অংকের অর্থায়ন করছে বলেও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। রাজনীতি ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, প্রতিমন্ত্রীর ছায়ায় সক্রিয় এই গুপ্ত জামায়াত ও ক্লিনিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অবিলম্বে দমন করা না হলে সরকারের সামগ্রিক সংস্কার অর্জন ও স্বাস্থ্য খাতের গতিশীলতা চিরতরে মুখথুবড়ে পড়বে।
প্রিন্ট
বিশেষ প্রতিবেদক : 





















