ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে সংরক্ষণব্যবস্থা থাকতেও ২৬ বছরের শিক্ষার্থীদের সনদ-নথি প্রধান শিক্ষকের বাসায়! জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীর সাফল্য বান্দরবানে বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ওয়ার্ল্ড ভিশন-গ্রাউসের প্রকল্প অবহিতকরণ সভা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার বির্তরকিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রোমান হাওলাদার গাজীপুরের টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন পাঁচবিবিতে অটোচালককে গলা কেটে হত্যা, অটো উধাও কালিহাতীতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’ অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকাকে হারিয়ে রানার-আপ গাকৃবির ‘কার্বোডিট’ বরগুনার আমতলীতে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

পঞ্চগড়ে সংরক্ষণব্যবস্থা থাকতেও ২৬ বছরের শিক্ষার্থীদের সনদ-নথি প্রধান শিক্ষকের বাসায়!

মোঃ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড় |
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ডাংগিরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সরকারি নথিপত্র এবং গত ২৬ বছরের এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বোর্ডের দেওয়া সনদ নিজ বাসায় রাখার কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সনদ বাসায় রাখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে বিদ্যালয়ে নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য আলাদা কক্ষ, স্টিলের আলমিরা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার পরও কেন সেগুলো বাসায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ সনদ ও সরকারি নথিপত্র ব্যক্তিগত বাসায় সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি একটি পাকা ভবনের মাঝখানে অবস্থিত। কক্ষটিতে প্রধান শিক্ষকের বসার জন্য চেয়ার, অফিসিয়াল টেবিল, ভারী দরজা, মানসম্মত জানালা এবং নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য দুটি বড় স্টিলের আলমিরা রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ৮০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটির দুটি কক্ষ শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য এমন অবকাঠামো থাকার পরও প্রধান শিক্ষক কেন সরকারি নথি ও শিক্ষার্থীদের সনদ নিজ বাসায় রেখেছেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয়ের সরকারি নথিপত্র ও দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষার্থীদের সনদ ব্যক্তিগত বাসায় সংরক্ষণের বিষয়টি খতিয়ে দেখে নথিগুলোর নিরাপত্তা, সংরক্ষণপদ্ধতি এবং এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, “নিরাপত্তার কারণে আমি নথি এবং এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদ সহ  গুরুত্বপূর্ণ সকল কাগজ পত্র বাসায় রেখেছি। তবে প্রয়োজন হলে সেগুলো বিদ্যালয়ে নিয়ে আসি।”

এদিকে, আটোয়ারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নতি কিংবা শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট কোনো শিক্ষক বাসায় রাখতে পারেন না।  ডাংগিরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে সংরক্ষণব্যবস্থা থাকতেও ২৬ বছরের শিক্ষার্থীদের সনদ-নথি প্রধান শিক্ষকের বাসায়!

পঞ্চগড়ে সংরক্ষণব্যবস্থা থাকতেও ২৬ বছরের শিক্ষার্থীদের সনদ-নথি প্রধান শিক্ষকের বাসায়!

আপডেট টাইম : ০১:১০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মোঃ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড় |
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ডাংগিরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সরকারি নথিপত্র এবং গত ২৬ বছরের এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বোর্ডের দেওয়া সনদ নিজ বাসায় রাখার কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সনদ বাসায় রাখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে বিদ্যালয়ে নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য আলাদা কক্ষ, স্টিলের আলমিরা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার পরও কেন সেগুলো বাসায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ সনদ ও সরকারি নথিপত্র ব্যক্তিগত বাসায় সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি একটি পাকা ভবনের মাঝখানে অবস্থিত। কক্ষটিতে প্রধান শিক্ষকের বসার জন্য চেয়ার, অফিসিয়াল টেবিল, ভারী দরজা, মানসম্মত জানালা এবং নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য দুটি বড় স্টিলের আলমিরা রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ৮০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটির দুটি কক্ষ শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য এমন অবকাঠামো থাকার পরও প্রধান শিক্ষক কেন সরকারি নথি ও শিক্ষার্থীদের সনদ নিজ বাসায় রেখেছেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয়ের সরকারি নথিপত্র ও দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষার্থীদের সনদ ব্যক্তিগত বাসায় সংরক্ষণের বিষয়টি খতিয়ে দেখে নথিগুলোর নিরাপত্তা, সংরক্ষণপদ্ধতি এবং এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, “নিরাপত্তার কারণে আমি নথি এবং এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদ সহ  গুরুত্বপূর্ণ সকল কাগজ পত্র বাসায় রেখেছি। তবে প্রয়োজন হলে সেগুলো বিদ্যালয়ে নিয়ে আসি।”

এদিকে, আটোয়ারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নতি কিংবা শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট কোনো শিক্ষক বাসায় রাখতে পারেন না।  ডাংগিরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রিন্ট