সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলায় ৪৩টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। একই সঙ্গে চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি আধুনিক নতুন ভবন নির্মাণেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢেউখালী ইউপি অফিস-বালিয়াহাটি ভায়া চন্দ্রপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, বাবুরচর ইউপি হেডকোয়ার্টার-চন্দ্রপাড়া বাজার ভায়া দশ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক, আটরশি-সতেররশি থেকে পিয়াজখালী সড়ক, যাত্রাবাড়ী ঘাট-রামচন্দ্রপুর ভায়া পূর্ব কান্দি জিপিএস সড়ক এবং জমির মোল্লার মোড়-আকটেরচর উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক।
এ ছাড়াও আজহার প্রিন্সিপালের বাড়ি-বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ সড়ক, লোহারটেক উচ্চ বিদ্যালয়-চরভদ্রাসন সংযোগ সড়ক, পিয়াজখালী সুইচগেট-খেজুরতলা বাজার সড়ক, ডাবল ব্রিজ-দড়িকৃষ্ণপুর এনজিপিএস ভায়া হজরত খাঁর বাড়ি সড়ক, সদরপুর-চরভদ্রাসন পাকা সড়ক থেকে মোলামের ডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়গামী সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
অনুমোদিত আরও প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মনিকোঠা বাজার-সারাঙ্গডাঙ্গী সড়ক, গোলন্ডা-তারাইল সড়ক থেকে পুখুরিয়া-সদরপুর সড়ক ভায়া পূর্ব শ্যামপুর মাদ্রাসা-হাওলাদার ডাঙ্গী সড়ক, পিয়াজখালী ইউজেডআর থেকে তালুকদার ডাঙ্গী জামে মসজিদ-দিখানডাঙ্গী জিপিএস সড়ক, সোলেনামা জিপিএস-চৈতার কোলপাড় সুইচগেট ভায়া প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন চোকদার সড়ক এবং বাবুরচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গনেশ বাবুর বাড়ি পর্যন্ত সড়ক।
এ ছাড়া ভাষানচর চালিতাতলার মোড় থেকে সোলেমানের দোকান ভায়া মজিবুল মুন্সির বাড়ি, সদরপুর-চরভদ্রাসন সড়কের বক্স কালভার্ট থেকে কোলপাড় ভায়া এসকে খাসাউদ্দিনের বাড়ি-হানিফের ডাঙ্গী জিপিএস সড়ক, মফিজউদ্দিন হাজীর কান্দি জিপিএস-বালিয়ারচর জিপিএস সড়ক, পূর্ব শৌলডুবি ইটভাটা-বারৈর হাট জিসি ভায়া মাঝকান্দি সড়ক, ব্র্যাক অফিস-আলিমের বাড়ি সড়কসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনুরুদ্দিন বেপারীর বাড়ি থেকে বেড়িবাঁধ সড়ক, আবুলের মোড় থেকে বারৈর হাট ভায়া নাজিম পারমানিকের বাড়ি সড়ক, চর মানাইর রাড়ীকান্দি থেকে ফটিক বেপারীর বাড়ি হয়ে চর গজাড়িয়া হালিম সরদারের বাড়ি সড়ক, ডুবেনেশ্বর নদী থেকে ডিসি সড়ক ভায়া নগরকান্দা খাল সড়ক, আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গনেশ বাবুর বাড়ি ভায়া বলাই ভারোগার বাড়ি সড়ক, জালাল মুন্সির বাড়ি থেকে লাল মিয়া সরদারের বাড়ি ভায়া রয় বাড়ি সড়ক এবং কালার বাড়ি থেকে গরুর হাট ভায়া আমজাদ খাঁর বাড়ি সড়কও উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে মানুষের জীবনও সহজ হবে’
এ বিষয়ে চরভদ্রাসনের স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ মন্ডল এশিয়া পোস্টকে বলেন, “আমাদের এলাকার অনেক সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। এসব সড়ক উন্নয়ন হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে নেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে মানুষের যে দুর্ভোগ হয়, সড়কগুলো উন্নত হলে তা অনেকটাই কমে আসবে। এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুলের উদ্যোগে এতগুলো সড়ক প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় আমরা আশাবাদী। প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
স্থানীয়দের মতে, সড়ক যোগাযোগ কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে একটি এলাকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান। তাই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভাঙ্গার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ উন্নত যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবেন। তাই এ সকল উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন এবং চলমান নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান তদারকির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সড়ক আধুনিকায়ন হলে গ্রামের উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণও সহজ হবে। এতে ভাঙ্গার গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “এলাকার মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার টেকসই সমাধানই আমার মূল অঙ্গীকার। উন্নয়ন শুধু নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের বাস্তব জীবনে এর সুফল পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
জানা গেছে, অনুমোদন পাওয়া ৪৩টি সড়ক প্রকল্পের বাইরে ভাঙ্গা উপজেলার আরও প্রায় ৬০টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে ভাঙ্গার প্রত্যন্ত এলাকার দীর্ঘদিনের সড়ক যোগাযোগের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
প্রিন্ট
ফরিদপুর প্রতিনিধি: 





















