ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দাঙ্গা দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১ হাজার রায়ট কার কিনছে পুলিশ শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার পঞ্চগড়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রেস কাউন্সিলের কর্মশালা গাজীপুরে অবৈধভাবে কৃষিজমি ভরাটের দায়ে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ধ্বংস গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পেলেন সুদীপ বসাক গাজীপুরে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাবের দ্বন্দ্বে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা: ৪ জন গ্রেপ্তার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জয়পুরহাটে বিজিবির নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন পঞ্চগড়ের ২৬৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় এসআরবির বিশেষ ব্যবস্থা মাগুরায় ইয়াবা ও নগদ ৬ লাখ টাকাসহ দুই নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে রাজকীয় বিদায়, দেওয়া হলো মোটরসাইকেল উপহার

গলায় পুষ্পমাল্য, সাথে সম্মাননা স্মারক ও নানা ধরনের উপহার নিয়ে পুস্পসজ্জিত সাজানো গাড়িতে বসে আছেন প্রধান শিক্ষক। আর সেই গাড়িতে রশি লাগিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে টেনে রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
চাকরি জীবনের শেষ দিনে শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ এমন বর্ণিল আয়োজন করেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
১৯৯৮ সালে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন
ওসমান গণি সরকার। টানা দীর্ঘ ২৭ বছর শিক্ষকতাকালে ব্যক্তি জীবনে আলোকিত মানুষ হতে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন শিক্ষার্থীদের। যাদের মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর আজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
এর আগে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে সংবর্ধিত করা হয় বিদায়ী ওই শিক্ষককে। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মালেক। পরে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বিদায় নেন।
আলোচনা সভা শেষে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ওসমান গণিকে প্রথমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একটি ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল উপহার দেন। এর পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পুষ্প মাল্য, সম্মাননা স্মারক এবং উপহার সামগ্রী দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনে আপ্লুত বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি সরকার। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করি। ২০০০ সালে নিয়োগ পাই। এরপর আজ ২৭ বছর অবসরে যাচ্ছি। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তাতে আমি আনন্দিত।
সিদরাতুল মুনতাহা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ আমাদের স্যারকে বিদায় জানাতে হচ্ছে। তিনি শুধু শিক্ষক ছিলেন না, পিতার মতো স্নেহ করতেন আমাদের। স্যারের বিদায় আমাদের খুব মর্মাহত করছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নয়ন বলেন, একজন শিক্ষক যখন তাঁর চাকরিজীবন শেষ করে বিদায় নেন, এটা তাঁর জন্য কষ্টের। তখন বিদায় মুহূর্তে এমন রাজকীয় বিদায় তাঁকে সম্মানিত ও আনন্দিত করে।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

দাঙ্গা দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১ হাজার রায়ট কার কিনছে পুলিশ

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে রাজকীয় বিদায়, দেওয়া হলো মোটরসাইকেল উপহার

আপডেট টাইম : ০৪:১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

গলায় পুষ্পমাল্য, সাথে সম্মাননা স্মারক ও নানা ধরনের উপহার নিয়ে পুস্পসজ্জিত সাজানো গাড়িতে বসে আছেন প্রধান শিক্ষক। আর সেই গাড়িতে রশি লাগিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে টেনে রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
চাকরি জীবনের শেষ দিনে শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ এমন বর্ণিল আয়োজন করেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
১৯৯৮ সালে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন
ওসমান গণি সরকার। টানা দীর্ঘ ২৭ বছর শিক্ষকতাকালে ব্যক্তি জীবনে আলোকিত মানুষ হতে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন শিক্ষার্থীদের। যাদের মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর আজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
এর আগে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে সংবর্ধিত করা হয় বিদায়ী ওই শিক্ষককে। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মালেক। পরে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বিদায় নেন।
আলোচনা সভা শেষে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ওসমান গণিকে প্রথমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একটি ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল উপহার দেন। এর পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পুষ্প মাল্য, সম্মাননা স্মারক এবং উপহার সামগ্রী দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনে আপ্লুত বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি সরকার। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করি। ২০০০ সালে নিয়োগ পাই। এরপর আজ ২৭ বছর অবসরে যাচ্ছি। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তাতে আমি আনন্দিত।
সিদরাতুল মুনতাহা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ আমাদের স্যারকে বিদায় জানাতে হচ্ছে। তিনি শুধু শিক্ষক ছিলেন না, পিতার মতো স্নেহ করতেন আমাদের। স্যারের বিদায় আমাদের খুব মর্মাহত করছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নয়ন বলেন, একজন শিক্ষক যখন তাঁর চাকরিজীবন শেষ করে বিদায় নেন, এটা তাঁর জন্য কষ্টের। তখন বিদায় মুহূর্তে এমন রাজকীয় বিদায় তাঁকে সম্মানিত ও আনন্দিত করে।


প্রিন্ট