ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর গাজীপুরে ব্রি পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার উদ্যোগে খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ সড়ক, নৌ ও রেলমন্ত্রী’র সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ বারিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় ও রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধন নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ৩ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা, ভিমরুলী পেয়ারাবাগানে একের পর এক দুর্ঘটনা: কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

ওয়ার্ড মেম্বারের চাউল চুরি ধরা পড়ায় সাংবাদিকদের হুমকি

ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি কার্ডে ৮০ কেজি চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৩২-৩৪ কেজি করে। গত ২৫ মে থেকে পৃথক পৃথক ভাবে ৫টি ইউনিয়নে মোট ৬৬০০ জন জেলের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়।

এরপর ১ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে চাউল বিতরণ শুরু হয়,প্রতিটি ইউনিয়ন এ ওয়ার্ড ভিত্তিক চাউল বিতরণ করা হয় । অভিযোগ রয়েছে যে, ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য ফজলুল হক লিটন হায়দার (সাহ)এর বিরুদ্ধে- প্রতি কার্ডের জন্য জেলেদের মাঝে ৮০ কেজি করে চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও জেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এক জনের চাউল দিচ্ছেন দুইজন কে। একজনের চাউল দুই জনকে দিলেও চাউল পাওয়ার কথা ৪০ কেজি করে কিন্তু তিনি দিচ্ছেন ৩২-৩৪ কেজি করে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী কামাল অভিযোগ করে জানান আমি ৩৪ কেজি চাল পেয়েছি। মানিক ও সুরেশ একই কথা জানান । তারা কেউ জানে না যে প্রতি কার্ডে ৮০ কেজি করে চাল পাবে।

আজ সোমবার দুপুর ১ টায় ৪ নং ইউনিয়ন এ গিয়ে দেখা যায় ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মানুষ ভিজিএফ চাউল নেওয়ার জন্য সকাল থেকে সিরিয়াল ধরে দারিয়ে আছে। ফজলুল হক লিটন হায়দার (মেম্বার)দাড়িয়ে থেকে চার বালতি করে লোক দিয়ে চাল বিতরণ করছেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা দের কাছ থেকে জানতে পারা যায় আজ লিটন মেম্বারের ওয়ার্ড এর চাউল বিতরণ করা হচ্ছে না। এবং তিনি নিজেকে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তিনি দাড়িয়ে থেকে অন্য ওয়ার্ডের মানুষ কে চাউল দিচ্ছেন। এবং প্রতি কার্ডের চাল ৪০ কেজির জায়গায় ৩২-৩৪ কেজি করে দিচ্ছেন। কিন্তু লিটন মেম্বার বলেন বালতি মেপে মেপে চাউল দিচ্ছেন প্রতি বালতি তে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাউল। তিনি চার বালতিতে ৩৮ কেজি চাউল দিচ্ছেন। কিন্তু কয়েক জনের চাউল মেপে দেখা যায় চাউল ৩২-৩৪ কেজি।
স্থানীয় বাসিন্দা’রা আরও জানান ফজলুল হক লিটন হায়দার যুবলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োজিত আছেন অনেক বছর ধরে।

এই বিষয়ে বরিশাল প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক ৭ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার ফজলুল হক লিটন হায়দার কে চাউল ওজনে কম দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন চাউল কম দেইনা। চাউল ওজন দেওয়া মিটারের ভিডিও এবং জনগণের ভিডিও দেখালে তিনি সাংবাদিক দের সাথে উত্তেজিত হয়ে যায় এবং সাংবাদিকদের কে হুমকি ধামকি দেয়। এক পর্যায়ে পরক্ষণেই তিনি বলেন আমি চাউল ৪০ কেজি করে দেই। কিন্তু মাপের সময় ১ কেজি কম হতে পারে।
প্যানেল চেয়ারম্যান এর বিষয় টি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু না বলে পালিয়ে যান।

এবিষয়ে ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন প্রশাসক’কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান , চাউল ৩৬ কেজি করে দেওয়ার কথা। কারন এক বস্তা চাউলে ঘাটতি হয় কেয়ারিং খরচ লেভার খরচ এই কারণে চাউল ৩৬ কেজি করে দেই। কিন্তু ৩৬ কেজির কম হওয়ার কথানা। তিনি আরও জানান ফজলুল হক লিটন মেম্বার ৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য। আজ তার ওয়ার্ডের চাউল দিচ্ছেনা। কিন্তু তিনি সবাইকে বলে সে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পেয়েছে। এমনকি তিনি নাগরিকত্ব সনদে ও সই করেছে অনেকের।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর

ওয়ার্ড মেম্বারের চাউল চুরি ধরা পড়ায় সাংবাদিকদের হুমকি

আপডেট টাইম : ০৮:৪৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫

ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি কার্ডে ৮০ কেজি চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৩২-৩৪ কেজি করে। গত ২৫ মে থেকে পৃথক পৃথক ভাবে ৫টি ইউনিয়নে মোট ৬৬০০ জন জেলের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়।

এরপর ১ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে চাউল বিতরণ শুরু হয়,প্রতিটি ইউনিয়ন এ ওয়ার্ড ভিত্তিক চাউল বিতরণ করা হয় । অভিযোগ রয়েছে যে, ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য ফজলুল হক লিটন হায়দার (সাহ)এর বিরুদ্ধে- প্রতি কার্ডের জন্য জেলেদের মাঝে ৮০ কেজি করে চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও জেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এক জনের চাউল দিচ্ছেন দুইজন কে। একজনের চাউল দুই জনকে দিলেও চাউল পাওয়ার কথা ৪০ কেজি করে কিন্তু তিনি দিচ্ছেন ৩২-৩৪ কেজি করে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী কামাল অভিযোগ করে জানান আমি ৩৪ কেজি চাল পেয়েছি। মানিক ও সুরেশ একই কথা জানান । তারা কেউ জানে না যে প্রতি কার্ডে ৮০ কেজি করে চাল পাবে।

আজ সোমবার দুপুর ১ টায় ৪ নং ইউনিয়ন এ গিয়ে দেখা যায় ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মানুষ ভিজিএফ চাউল নেওয়ার জন্য সকাল থেকে সিরিয়াল ধরে দারিয়ে আছে। ফজলুল হক লিটন হায়দার (মেম্বার)দাড়িয়ে থেকে চার বালতি করে লোক দিয়ে চাল বিতরণ করছেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা দের কাছ থেকে জানতে পারা যায় আজ লিটন মেম্বারের ওয়ার্ড এর চাউল বিতরণ করা হচ্ছে না। এবং তিনি নিজেকে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তিনি দাড়িয়ে থেকে অন্য ওয়ার্ডের মানুষ কে চাউল দিচ্ছেন। এবং প্রতি কার্ডের চাল ৪০ কেজির জায়গায় ৩২-৩৪ কেজি করে দিচ্ছেন। কিন্তু লিটন মেম্বার বলেন বালতি মেপে মেপে চাউল দিচ্ছেন প্রতি বালতি তে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাউল। তিনি চার বালতিতে ৩৮ কেজি চাউল দিচ্ছেন। কিন্তু কয়েক জনের চাউল মেপে দেখা যায় চাউল ৩২-৩৪ কেজি।
স্থানীয় বাসিন্দা’রা আরও জানান ফজলুল হক লিটন হায়দার যুবলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োজিত আছেন অনেক বছর ধরে।

এই বিষয়ে বরিশাল প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক ৭ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার ফজলুল হক লিটন হায়দার কে চাউল ওজনে কম দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন চাউল কম দেইনা। চাউল ওজন দেওয়া মিটারের ভিডিও এবং জনগণের ভিডিও দেখালে তিনি সাংবাদিক দের সাথে উত্তেজিত হয়ে যায় এবং সাংবাদিকদের কে হুমকি ধামকি দেয়। এক পর্যায়ে পরক্ষণেই তিনি বলেন আমি চাউল ৪০ কেজি করে দেই। কিন্তু মাপের সময় ১ কেজি কম হতে পারে।
প্যানেল চেয়ারম্যান এর বিষয় টি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু না বলে পালিয়ে যান।

এবিষয়ে ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন প্রশাসক’কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান , চাউল ৩৬ কেজি করে দেওয়ার কথা। কারন এক বস্তা চাউলে ঘাটতি হয় কেয়ারিং খরচ লেভার খরচ এই কারণে চাউল ৩৬ কেজি করে দেই। কিন্তু ৩৬ কেজির কম হওয়ার কথানা। তিনি আরও জানান ফজলুল হক লিটন মেম্বার ৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য। আজ তার ওয়ার্ডের চাউল দিচ্ছেনা। কিন্তু তিনি সবাইকে বলে সে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পেয়েছে। এমনকি তিনি নাগরিকত্ব সনদে ও সই করেছে অনেকের।


প্রিন্ট