ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর গাজীপুরে ব্রি পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার উদ্যোগে খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ সড়ক, নৌ ও রেলমন্ত্রী’র সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ বারিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় ও রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধন নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ৩ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা, ভিমরুলী পেয়ারাবাগানে একের পর এক দুর্ঘটনা: কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করেছে সরকারি দল: জামায়াত আমির

বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকারি দল শপথ না নিয়ে তারা জুলাইকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে। এতে জন–আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি। সংস্কারের বিপরীতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।

আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তবে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আজ ছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথের দিন। আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল গতকাল গভীর রাতে। যেটা আমাদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়কও ছিল। তারপর আমাদের নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেশবাসীর প্রতি সম্মান রেখে আমরা এসেছিলাম শপথ নিতে। ইতিপূর্বে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ করেছি, একই দিনে একই সময়ে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো। এবারই বোধ হয় আপনারা তার ব্যতিক্রম লক্ষ করেছেন। সরকারি দল আমাদের আগে শপথ নিয়েছে।’

জামায়াতসহ ১১ দলকে সংসদ সচিবালয় থেকে যে পত্র বা চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে দুটি শপথের কথা উল্লেখ ছিল বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, চিঠিতে বলা হয়েছিল, সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁরা প্রথমে শপথ নেবেন। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আরেকটা শপথ হবে।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা হলে প্রবেশ করার পর সংসদ সচিব আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে “স্যার, সকালবেলা সরকারি দলের তাঁরা শপথ নিয়েছেন। তাঁরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আপনারা কী করবেন?” আমরা তখন বললাম যে আমরা দুটিরই শপথ নিতে এখানে এসেছি।’

জামায়াতসহ ১১ দলের সংসদ সদস্যরা কেন দুটি শপথ নিতে এসেছেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি যে ছাব্বিশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল না। এই ছাব্বিশ সালের নির্বাচনটা হয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কারণে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর আহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আজকে হয়তো শপথ নিতে ভিন্নচিন্তা করতে পারতাম। কারণ, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের রায়—এই দুটির প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমরা গণ্য করেছি। আমরা গণভোটের রায়কে সম্মান করেছি, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেছি। যাঁরা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান করেছি এবং আমরা একমত হয়েছি যে এই শপথ নেওয়া আমাদের কর্তব্য।’

সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, সে প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদিও তারা ব্যাখ্যায় বলেছে যে সংসদ বসে, প্রভিশন পিরিয়ড করে দেখবে। আমরা এটা দ্রুত দেখতে চাই। যদি তারা জুলাইকে সম্মান করে, যদি সংস্কারকে তারা ধারণ করে—আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন, তিনি নিজেও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে গিয়ে বলেছেন যে “আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন”—যদি এর প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল হন, আমরা মনে করি, তাঁরা ওই শপথও নেবেন। কার কাছে শপথ নেবেন, সে দাবি আমরা করব না। ওনাদের পছন্দমতো অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটির কাছে উনারা নিতে পারেন। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু আমরা দেখতে চাই, জুলাই সম্মানিত হয়েছে এবং জুলাই স্বীকৃত হয়েছে। জুলাইকে অসম্মান-অশ্রদ্ধা করে, স্বীকৃতি না দিয়ে ছাব্বিশের এই পার্লামেন্ট নিশ্চয়ই কোনো গৌরবের আসনে বসতে পারবে না।’

এ সময় জামায়াতের আমির সরকারি প্লট ও ট্যাক্সবিহীন গাড়ি না নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই সিদ্ধান্তে আমরা অবিচল এবং অটল। আমরা এই সুবিধা নেব না। এ ছাড়া বাকি কতটুকু না নিয়ে পারা যায়, সেটাও আমরা দেখব।’

দেশ এবং জনগণের ভালোর জন্য সরকার কোনো উদ্যোগ নিলে জামায়াতসহ ১১ দলের সমর্থন থাকবে বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যদি আমরা দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে কিছু দেখি, তাহলে আমরা জনগণের হয়ে এই জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব ইনশা আল্লাহ।’

১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত দলগুলোকে ভোট দেওয়া বা সমর্থনের কারণে নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবার ওপর ব্যাপক হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সরকারি দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে ১১–দলীয় ঐক্য। এখনই এসব হামলা বন্ধ হওয়া উচিত। সরকারকে এ ব্যাপারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যদি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ১১ দল জনগণের পাশে দাঁড়াবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রী করার বিষয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটা তো সরকারি দল তাদের চয়েজের মানুষ নিয়েছে। তবে আমরা এটাকে ফেয়ার মনে করি না। যাঁরা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের পার্ট ছিলেন, তাঁরা আবার একটা রাজনৈতিক গভর্নমেন্টের অংশ হবেন। তাহলে তাঁরা কতটা নিরপেক্ষ ছিলেন এবং ছিলেন না—সেই জায়গায় প্রশ্ন উঠতেই পারে।’

সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি যে আজকে সরকারি দল হিসেবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিল না, এটা গণভোটের যে গণরায় এসেছে “হ্যাঁ”–এর পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে, সেই রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। সরকার গঠনের প্রথম দিনই যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল, তাদের কাছ থেকে এই দেশ, জাতি বা আমরা কী আশা করব, সেটা সবার মনেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এবং এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়, এটা আইনি সংকট এবং জটিলতা তৈরি করেছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদে তারা (বিএনপি) স্বাক্ষর করেছে। এই আদেশ মেনে নিয়েছে। আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে, সেটিও মেনে নিয়েছে। এ জন্য যে ব্যাখ্যা তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, সেটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণভোট সংবিধানে নেই, এমনটি বলা হচ্ছে।

গণভোট সংবিধানে ছিল না। তবে গণভোটের বৈধতা দিয়েছে জুলাই সনদ। সেটি সবাই মেনে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিয়েছে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত দলগুলোর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর

সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করেছে সরকারি দল: জামায়াত আমির

আপডেট টাইম : ০১:১৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকারি দল শপথ না নিয়ে তারা জুলাইকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে। এতে জন–আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি। সংস্কারের বিপরীতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।

আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তবে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আজ ছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথের দিন। আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল গতকাল গভীর রাতে। যেটা আমাদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়কও ছিল। তারপর আমাদের নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেশবাসীর প্রতি সম্মান রেখে আমরা এসেছিলাম শপথ নিতে। ইতিপূর্বে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ করেছি, একই দিনে একই সময়ে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো। এবারই বোধ হয় আপনারা তার ব্যতিক্রম লক্ষ করেছেন। সরকারি দল আমাদের আগে শপথ নিয়েছে।’

জামায়াতসহ ১১ দলকে সংসদ সচিবালয় থেকে যে পত্র বা চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে দুটি শপথের কথা উল্লেখ ছিল বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, চিঠিতে বলা হয়েছিল, সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁরা প্রথমে শপথ নেবেন। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আরেকটা শপথ হবে।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা হলে প্রবেশ করার পর সংসদ সচিব আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে “স্যার, সকালবেলা সরকারি দলের তাঁরা শপথ নিয়েছেন। তাঁরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আপনারা কী করবেন?” আমরা তখন বললাম যে আমরা দুটিরই শপথ নিতে এখানে এসেছি।’

জামায়াতসহ ১১ দলের সংসদ সদস্যরা কেন দুটি শপথ নিতে এসেছেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি যে ছাব্বিশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল না। এই ছাব্বিশ সালের নির্বাচনটা হয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কারণে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর আহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আজকে হয়তো শপথ নিতে ভিন্নচিন্তা করতে পারতাম। কারণ, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের রায়—এই দুটির প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমরা গণ্য করেছি। আমরা গণভোটের রায়কে সম্মান করেছি, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেছি। যাঁরা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান করেছি এবং আমরা একমত হয়েছি যে এই শপথ নেওয়া আমাদের কর্তব্য।’

সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, সে প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদিও তারা ব্যাখ্যায় বলেছে যে সংসদ বসে, প্রভিশন পিরিয়ড করে দেখবে। আমরা এটা দ্রুত দেখতে চাই। যদি তারা জুলাইকে সম্মান করে, যদি সংস্কারকে তারা ধারণ করে—আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন, তিনি নিজেও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে গিয়ে বলেছেন যে “আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন”—যদি এর প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল হন, আমরা মনে করি, তাঁরা ওই শপথও নেবেন। কার কাছে শপথ নেবেন, সে দাবি আমরা করব না। ওনাদের পছন্দমতো অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটির কাছে উনারা নিতে পারেন। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু আমরা দেখতে চাই, জুলাই সম্মানিত হয়েছে এবং জুলাই স্বীকৃত হয়েছে। জুলাইকে অসম্মান-অশ্রদ্ধা করে, স্বীকৃতি না দিয়ে ছাব্বিশের এই পার্লামেন্ট নিশ্চয়ই কোনো গৌরবের আসনে বসতে পারবে না।’

এ সময় জামায়াতের আমির সরকারি প্লট ও ট্যাক্সবিহীন গাড়ি না নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই সিদ্ধান্তে আমরা অবিচল এবং অটল। আমরা এই সুবিধা নেব না। এ ছাড়া বাকি কতটুকু না নিয়ে পারা যায়, সেটাও আমরা দেখব।’

দেশ এবং জনগণের ভালোর জন্য সরকার কোনো উদ্যোগ নিলে জামায়াতসহ ১১ দলের সমর্থন থাকবে বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যদি আমরা দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে কিছু দেখি, তাহলে আমরা জনগণের হয়ে এই জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব ইনশা আল্লাহ।’

১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত দলগুলোকে ভোট দেওয়া বা সমর্থনের কারণে নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবার ওপর ব্যাপক হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সরকারি দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে ১১–দলীয় ঐক্য। এখনই এসব হামলা বন্ধ হওয়া উচিত। সরকারকে এ ব্যাপারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যদি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ১১ দল জনগণের পাশে দাঁড়াবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রী করার বিষয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটা তো সরকারি দল তাদের চয়েজের মানুষ নিয়েছে। তবে আমরা এটাকে ফেয়ার মনে করি না। যাঁরা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের পার্ট ছিলেন, তাঁরা আবার একটা রাজনৈতিক গভর্নমেন্টের অংশ হবেন। তাহলে তাঁরা কতটা নিরপেক্ষ ছিলেন এবং ছিলেন না—সেই জায়গায় প্রশ্ন উঠতেই পারে।’

সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি যে আজকে সরকারি দল হিসেবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিল না, এটা গণভোটের যে গণরায় এসেছে “হ্যাঁ”–এর পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে, সেই রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। সরকার গঠনের প্রথম দিনই যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল, তাদের কাছ থেকে এই দেশ, জাতি বা আমরা কী আশা করব, সেটা সবার মনেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এবং এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়, এটা আইনি সংকট এবং জটিলতা তৈরি করেছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদে তারা (বিএনপি) স্বাক্ষর করেছে। এই আদেশ মেনে নিয়েছে। আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে, সেটিও মেনে নিয়েছে। এ জন্য যে ব্যাখ্যা তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, সেটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণভোট সংবিধানে নেই, এমনটি বলা হচ্ছে।

গণভোট সংবিধানে ছিল না। তবে গণভোটের বৈধতা দিয়েছে জুলাই সনদ। সেটি সবাই মেনে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিয়েছে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত দলগুলোর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট