মুফতি ইদ্রিসুর রহমান, বরগুনা |
বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গেরাবুনিয়া গ্রামে মোসা. সানজিদা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা।
বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বামী উজ্জ্বল তালুকদারের বাড়ি থেকে সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানা পুলিশ। পরে রাত ১০টার দিকে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে পটুয়াখালীর কালিকাপুর ইউনিয়নের পসুরিবুনিয়া গ্রামের আবুবকর তালুকদারের বড় মেয়ে সানজিদা আক্তারের সঙ্গে আমতলী উপজেলার গেরাবুনিয়া গ্রামের মোহাম্মদ কাবিল তালুকদারের ছেলে উজ্জ্বল তালুকদারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শাশুড়ি মাকসুদা বেগম সানজিদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
নিহতের বাবা আবুবকর তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, অভাবের সংসার থেকেও বিভিন্ন সময়ে জামাইকে প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার মালামাল এবং নগদ ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও মেয়ের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। যৌতুকের দাবিতে একাধিকবার তাকে মারধর করা হয়। প্রায় তিন মাস আগে মারধরের পর মেয়েকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে নেওয়া হয়। গত মাসেও একইভাবে মারধরের পর বাবার বাড়ি পাঠানো হয়েছিল। পরে ভুল স্বীকার করে আবারও তাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সানজিদা স্বামীর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর শাশুড়ি মাকসুদা বেগম একদিনের জন্য বাইরে যাওয়ার কথা বলে তাকে বাড়িতে রেখে যান। যাওয়ার সময় এক কেজি চাল ও কয়েকটি আলু রেখে যান। তিন দিন পর ফিরে এসে ঘরের একটি কক্ষের তালা ভাঙা দেখে সানজিদার বিরুদ্ধে চাল চুরির অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার ও শাশুড়ি মাকসুদা বেগম তাকে মারধর করেন বলে পরিবারের দাবি। এমনকি ওই সময় সানজিদাকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেও দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
নিহতের পরিবারের আরও অভিযোগ, সানজিদার মৃত্যুর খবর তাদের সরাসরি জানানো হয়নি। অন্য একটি সূত্রের মাধ্যমে বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন।
এ বিষয় উজ্জ্বল তালুকদার মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসতাম,কি কারনে মারা গেলো, আমি জানিনা,শ্বশুর যদি বলে আমি হত্যা করেছি, তাহলে আমার বলার কিছু নেই।
এ ঘটনায় আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রাপ্তী এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রিন্ট
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 




















