ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহম্মদপুর ইউএনও অফিসে ঘুষের টাকা নিয়ে বিধান মন্ডলের সাথে বাকবিতন্ড! মির্জাগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন মাগুরায় এজাহারভুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করছে না শ্রীপুর থানার পুলিশ! নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট অপচয় ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালীগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযানে ২০ কেজি গাজা সহ মাদক সম্রাজ্ঞী মিতু গ্রেফতার মাগুরার শালিখায় চাউল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির ভিডিও ধারণ ও সংবাদ পরিবেশন করায় দুই সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজি মামলা! রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেসসচিব হলেন মোল্লা আহমদ কুতুবুদ-দ্বীন সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ নির্ধারণের প্রস্তাব গাজীপুরে উদ্বোধনের আগেই সড়কে ধস: দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত মাগুরা গোপালগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম (মিলন) গ্রেপ্তার

মহম্মদপুর ইউএনও অফিসে ঘুষের টাকা নিয়ে বিধান মন্ডলের সাথে বাকবিতন্ড!

  • মাহামুদুন নবী :
  • আপডেট টাইম : ০৩:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৭৬৮ বার পড়া হয়েছে

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউ এন ও এর কার্যালয়ে ঘুষের টাকা নিয়ে বিধান মন্ডলের সাথে বাক বিতান্ডের এমন একটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নেটিজেন ও সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শনিবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজে তন্ময় নামের এক যুবক তার দেওযা ঘুষের টাকা ফেরত চাইছে ইউএনও অফিসের বিধান নামের একজন কর্মচারীর নিকট। এমন বিষয় টি ফেইসবুকে জানাজানি হবার পরই শুরু হয় মূল ঘটনার রহস্য উন্মোচন। এ বিষয়ে লেনদেনের বক্তব্য সহ প্রতিনিধির হাতে দুটি ভিডিও ক্লিপ চলে আসে।

অনুসন্ধানে জানা যায় মহম্মদপুর উপজেলার পূর্ব নারানপুর এলাকার তন্ময় নামের এক যুবক তার দাদার নাম মুক্তি যোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রাথমিক যাচাই বাছাই সম্পন্ন শেষ করার পর ইউএনও অফিসের স্টাফ বিধান চন্দ্র মন্ডল নামে এক ব্যাক্তি তার নিকট মুক্তি যোদ্ধা বানানোর জন্য ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকাটি ১০ ই আগষ্ট ২০২৪ বিধানের নিকট প্রদান করেন। টাকা গুলো প্রদানের পর ২ বছরেও তালিকায় নাম না উঠায় কয়েকদফা টাকা ফেরত চাইলে তন্ময়কে টাকাটি ফেরত না দিয়ে নানাধরনের তালবাহানা করেন বিধান চন্দ্র মন্ডল। ঘটনাটি নিয়ে কয়েকদফা ইউএনও অফিসে উচ্চবাচ্য কথা বলাবলির ঘটনাও ঘটে। পরে টাকাটি লেনদেনের বিষয়ে কথা বলাবলির একটি গোপন ভিডিও করা হলে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনাটি নিয়ে শনিবার দুপুরে মানবজমিন প্রতিনিধিসহ কয়েকজন সাংবাদিকের নিকট মৌখিক অভিযোগ ও বক্তব্য প্রদান করেন কন্ময় তেওযারি। পরে ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয় অনুসন্ধান।
অভিযোগকারী তন্ময় তেওয়ারি বলেন, তার দাদা একজন মুক্তি যোদ্ধা ছিলেন তালিকায় নাম উঠাতে অনেকের দ্বারেদ্বারে ঘরতে ঘুরতে মারাও যান তিনি। কিন্তু এ যাবৎ তালিকায় তার নাম উঠেনি। এবার আবেদন করার পর যাচাই বাছাই সম্পন্ন হয় কিন্তু যাচাই বাছাই সম্পন্ন হলে ইউএনও অফিসের স্টাফ বিধান চন্দ মন্ডল তাকে বলেন ৩ লক্ষ টাকা দিলে তবেই তার দাদুর নাম তালিকায় উঠানো সম্ভব হবে। পরে বিধানের কথা মতো তন্ময় ও তার চাচা কানু তেওয়ারি দুজনে অফিসে গিয়ে বিধানের হাতে ঘুষ বাবদ দাবি করা নগদ ৩ লক্ষ টাকা বুঝে দেন। টাকা নিয়ে বিধান বলেন চিন্তা করার দরকার নেই নাম তালিকায় উঠানো হবে। এর পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তালিকায় না উঠায় আমি বিধানের নিকট টাকা ফেরৎ চাইলে সে আমার সাথে বাজে আচরন করে এবং টাকাটি আজ ও ফেরত দেননি। আমি বিধানকে দেওয়া আমার টাকাটা ফেরত চাই এবং বিধানের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জোর দাবি করছি।
কানু তেওয়ারি বলেন, দুই বছর পার হয়ে গেলেও যেহেতু আমার কাজই করে দেয়নি বিধান সেহেতু আমার টাকাটা আমি ফেরত চাই।
অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র মন্ডল তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রথমে অস্বিকার করলেও পরে বলেন টাকাটি আমি খায়নি । টাকাটি আমার মাধ্যমে রেজাউর রহমান রিজু নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা যিনি যাচাই-বাছাই কমিটিতে ছিলেন তিনি নিয়েছেন।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহনুর জামান বলেন, ঘটনাটি জেনেছি ঘুষের বিষয়ে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মহম্মদপুর ইউএনও অফিসে ঘুষের টাকা নিয়ে বিধান মন্ডলের সাথে বাকবিতন্ড!

মহম্মদপুর ইউএনও অফিসে ঘুষের টাকা নিয়ে বিধান মন্ডলের সাথে বাকবিতন্ড!

আপডেট টাইম : ০৩:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউ এন ও এর কার্যালয়ে ঘুষের টাকা নিয়ে বিধান মন্ডলের সাথে বাক বিতান্ডের এমন একটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নেটিজেন ও সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শনিবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজে তন্ময় নামের এক যুবক তার দেওযা ঘুষের টাকা ফেরত চাইছে ইউএনও অফিসের বিধান নামের একজন কর্মচারীর নিকট। এমন বিষয় টি ফেইসবুকে জানাজানি হবার পরই শুরু হয় মূল ঘটনার রহস্য উন্মোচন। এ বিষয়ে লেনদেনের বক্তব্য সহ প্রতিনিধির হাতে দুটি ভিডিও ক্লিপ চলে আসে।

অনুসন্ধানে জানা যায় মহম্মদপুর উপজেলার পূর্ব নারানপুর এলাকার তন্ময় নামের এক যুবক তার দাদার নাম মুক্তি যোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রাথমিক যাচাই বাছাই সম্পন্ন শেষ করার পর ইউএনও অফিসের স্টাফ বিধান চন্দ্র মন্ডল নামে এক ব্যাক্তি তার নিকট মুক্তি যোদ্ধা বানানোর জন্য ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকাটি ১০ ই আগষ্ট ২০২৪ বিধানের নিকট প্রদান করেন। টাকা গুলো প্রদানের পর ২ বছরেও তালিকায় নাম না উঠায় কয়েকদফা টাকা ফেরত চাইলে তন্ময়কে টাকাটি ফেরত না দিয়ে নানাধরনের তালবাহানা করেন বিধান চন্দ্র মন্ডল। ঘটনাটি নিয়ে কয়েকদফা ইউএনও অফিসে উচ্চবাচ্য কথা বলাবলির ঘটনাও ঘটে। পরে টাকাটি লেনদেনের বিষয়ে কথা বলাবলির একটি গোপন ভিডিও করা হলে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনাটি নিয়ে শনিবার দুপুরে মানবজমিন প্রতিনিধিসহ কয়েকজন সাংবাদিকের নিকট মৌখিক অভিযোগ ও বক্তব্য প্রদান করেন কন্ময় তেওযারি। পরে ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয় অনুসন্ধান।
অভিযোগকারী তন্ময় তেওয়ারি বলেন, তার দাদা একজন মুক্তি যোদ্ধা ছিলেন তালিকায় নাম উঠাতে অনেকের দ্বারেদ্বারে ঘরতে ঘুরতে মারাও যান তিনি। কিন্তু এ যাবৎ তালিকায় তার নাম উঠেনি। এবার আবেদন করার পর যাচাই বাছাই সম্পন্ন হয় কিন্তু যাচাই বাছাই সম্পন্ন হলে ইউএনও অফিসের স্টাফ বিধান চন্দ মন্ডল তাকে বলেন ৩ লক্ষ টাকা দিলে তবেই তার দাদুর নাম তালিকায় উঠানো সম্ভব হবে। পরে বিধানের কথা মতো তন্ময় ও তার চাচা কানু তেওয়ারি দুজনে অফিসে গিয়ে বিধানের হাতে ঘুষ বাবদ দাবি করা নগদ ৩ লক্ষ টাকা বুঝে দেন। টাকা নিয়ে বিধান বলেন চিন্তা করার দরকার নেই নাম তালিকায় উঠানো হবে। এর পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তালিকায় না উঠায় আমি বিধানের নিকট টাকা ফেরৎ চাইলে সে আমার সাথে বাজে আচরন করে এবং টাকাটি আজ ও ফেরত দেননি। আমি বিধানকে দেওয়া আমার টাকাটা ফেরত চাই এবং বিধানের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জোর দাবি করছি।
কানু তেওয়ারি বলেন, দুই বছর পার হয়ে গেলেও যেহেতু আমার কাজই করে দেয়নি বিধান সেহেতু আমার টাকাটা আমি ফেরত চাই।
অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র মন্ডল তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রথমে অস্বিকার করলেও পরে বলেন টাকাটি আমি খায়নি । টাকাটি আমার মাধ্যমে রেজাউর রহমান রিজু নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা যিনি যাচাই-বাছাই কমিটিতে ছিলেন তিনি নিয়েছেন।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহনুর জামান বলেন, ঘটনাটি জেনেছি ঘুষের বিষয়ে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।