ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সিরাজদিখানে এসআই মাসুদ রানার বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা শ্রীকাইলে SSC-২০২৬ এর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান  বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কালিয়াকৈরে একদিনে ৩০টি উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক আহমেদ জয়পুরহাটে লাইসেন্সবিহীন সার ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান-জরিমানা ক্ষেতলালে নানা আয়োজনে ডায়াবেটিস সেবা দিবস উদযাপন ঝালকাঠিতে ইয়াবাসহ চাল ব্যবসায়ী আটক পঞ্চগড়ে মানব পাচার ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে আটক ৫ রিকশায় ফেলে যাওয়া টেনিস কিট বক্স ১৯ ঘণ্টায় উদ্ধার করল মাগুরা পুলিশ

গাজীপুরে হত্যার পর লাশের কঙ্কাল উদ্ধার, দুই ঘাতক গ্রেপ্তার

গাজীপুর প্রতিনিধি |
গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিহতের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ শাহিন। পুলিশের জানায়, গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে সৌরভ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছাঃ কাকলী বেগম সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত তদন্তে কিছু রহস্যজনক তথ্য পান। পরে ওসি আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তার মা বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা করেন।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাদারীপুরের টেকেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শাহিনকে রাজৈরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সৌরভ ছিলেন রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের একটি দুই বছর বয়সী সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন রবিউল। এর জের ধরে তিনি শাহিনের সঙ্গে পরামর্শ করে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট সৌরভকে কৌশলে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সৌরভকে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

সদর থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন অংশ নিয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিজমিতে অবৈধ বালুভরাট ও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

গাজীপুরে হত্যার পর লাশের কঙ্কাল উদ্ধার, দুই ঘাতক গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ০৩:৩৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর প্রতিনিধি |
গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিহতের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ শাহিন। পুলিশের জানায়, গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে সৌরভ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছাঃ কাকলী বেগম সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত তদন্তে কিছু রহস্যজনক তথ্য পান। পরে ওসি আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তার মা বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা করেন।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাদারীপুরের টেকেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শাহিনকে রাজৈরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সৌরভ ছিলেন রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের একটি দুই বছর বয়সী সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন রবিউল। এর জের ধরে তিনি শাহিনের সঙ্গে পরামর্শ করে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট সৌরভকে কৌশলে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সৌরভকে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

সদর থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন অংশ নিয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


প্রিন্ট