মোঃ মাহবুবুর রহমান |
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কের ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের সামনে ও সকালবেলা এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের গোলকান্দাইল স্টিল ব্রীজের সামনে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবহন চালক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র ত্রুটির অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে টাকা না দিলে মামলা বা গাড়ি আটকানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। এ সুযোগে রেকারের দায়িত্ব থাকা কনস্টেবল প্রশান্ত, কনস্টেবল পলাশ ও এসআই কাজল সহ কিছু অসাধু হাইওয়ে পুলিশ সদস্য চালকদের হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে মহাসড়কের চলাচলকারী অটো চালকদের কাছ থেকে জানা যায় যে রেকারের দায়িত্ব থাকা প্রশান্ত নিষিদ্ধ থ্রি হুইলার একসাথে ১৫ ২০ টা করে আটকের পর ৮-১০ জন অটো চালকদের কাছ থেকে ৫০০/১০০০/১২০০ করে টাকা নেয়ার পরে একটা রেকার বিলে তাদের সবার স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেন। সর্বশেষ যাকে এই রিসিটটা দেওয়া হয় তাকে বলে দেওয়া হয় এক মাসের মধ্যে আর তার গাড়ি ধরা হবে না। এভাবেই অটোচালকদের কাছ থেকে সু-কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই প্রশান্তর বিরুদ্ধে। তবে এর সহযোগী হিসেবে পলাশের নাম উল্লেখযোগ্য। পলাশ এর সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও চার চাকার বড় গাড়িগুলো কাগজপত্র চেক করার নাম করে এবং মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসআই কাজলের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন আমরা এই কাজের সাথে জড়িত না। নিষিদ্ধ গাড়ি আটক করা এবং কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা আমাদের দায়িত্ব আমরা সেই দায়িত্বই পালন করছি।
ভুলতা হাইওয়ে ক্যাম্পের ইনচার্জ ওসি জসিম উদ্দিন বলেন মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন
নাগরিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন।
প্রিন্ট
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 





















