বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন ( বিসিক) এর নানাবিধ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রায় ৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত ঢাকা-১ এর কার্যালয়।
তদপ্রেক্ষিতে একজন সহকারী পরিচলকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বিসিকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুজ্জামান ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ফাইলপত্র দেখতে চান এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদী চান। বিসিক চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে সকল ফাইলপত্র ও তথ্যদি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।
দুদক সুত্রে জানাগেছে, বিসিক এ বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার আমলে ব্যপক অনিয়ম দুর্নীতি সংগঠিত হয়।
সে সব অনিয়ম দুর্নীতির সাথে যে সব কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন তারা কেউ কেউ অবসরে চলে গেছেন। কেউ কেউ পদন্নোতি পেয়ে লোভনীয় পদে অধিষ্ঠিত আছেন।
তারা ঠিক আগের নিয়মেই অনিয়ম,দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এসব কর্মকর্তারা সরকারী টাকা লোপাট করে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তারা নিয়োগ দুর্নীতির সাথেও জড়িত ছিলেন। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে এতোদিন দুদকের ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি তারা আবার একটি পদন্নোতি নিয়েছেন আইনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে। বর্তমান সরকার আমলে এসে তারা গা থেকে আওয়ামী লীগের মুজিব কোট নামিয়ে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন।
গত ২৪/৪/২০২৬ তারিখের দুদক থেকে প্রদত্ত এক নোটিশ থেকে জানা যায়,এই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর শুনানী করার জন্য গত মে মাসের ১১/১২/১৩ তারিখে দুদক কার্যালয়ে ডাকা হয়। তারা লিখিত ও মৌখিক জবাব দেন।
কিন্তু দুদক কর্মকর্তারা তাতে সন্তুষ্টি না হতে পারায় তাদের বিরুদ্ধে সরেজমিনে আরো অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন। সেই আলোকেই গতকাল বিসিক এর প্রধান কার্যালয়ে তারা উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেসাবাদ করেন।
অভুযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ১ নম্বরে নাম রয়েছে মুন্সিগঞ্জ কেমিকেল পার্কের পিডি মো হাফিজুর রহমানের।
২ নম্বরে আছেন সেফালি খাতুন।
৩ নম্বরে আছেন মোঃ রাসেদুর রহমন। ৪/৫/৬/৭ নম্বরে আরো কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন। এদের মধ্যে পিডি হাফিজুরের বিরুদ্ধে সব থেকে বেশি অভিযোগ রয়েছে। তিন অবৈধভাবে পদন্নোতি নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ২৮ টি বিভাগীয় মামলা ছিল। যেগুলো তিন বর্তমান চেয়ারম্যানকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে ধামা চাপা দিয়েছেন বা বিভাগীয় মামলা থেকে মুক্তি পয়েছেন।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের টেন্ডার দুর্নীতি সহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাছে থেকে কয়েক কোটি টাকা কমিশন গ্রহন করে তাদোরকে কাজ দিয়েছেন। এ ছাড়া ভুয়া বিল ভাউচারে মোটা অংকের টাকা গ্রাস করেছেন। তিন কি পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তা নিরুপন করার জন্য দুদক থেকে চিঠি ইস্যু করা হচ্ছে।
অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলা,জালিয়াতি,অর্থ তছরুপ সহ বেশকটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পিডি হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার,নারীবাজি,প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিক না থাকা। ভুয়া কর্মচারীদের নামে বেতন তুলে আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি তিনি টাঙ্গাইল শিল্প পার্কের মাটি ভরাটের টেন্ডারে হস্তক্ষেপ করে একজন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে বসে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা ঘুস নিয়েছেন এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে বিসিক এর চেয়ারম্যান মোাঃ সাইফুল ইসলাম দুদক কর্মকর্তারা তার সাথে দেখা করে তথ্য প্রমান চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে পিডি হাফিজুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে নয় অখিল রঞ্জনের নিয়োগ বিষয়ের ফাইলপত্র চেয়েছেন তারা।(চলবে)
প্রিন্ট
বিশেষ প্রতিবেদক : 






















