ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ মন্ত্রীর সংস্কার রুঁখতে আওয়ামী-জামায়াত সিন্ডিকেটের বহুমুখি চক্রান্ত! গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়নে ১২০ কোটি টাকা বাণিজ্যে পঞ্চগড়ে সংরক্ষণব্যবস্থা থাকতেও ২৬ বছরের শিক্ষার্থীদের সনদ-নথি প্রধান শিক্ষকের বাসায়! জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় দারুল মাজিদ মাহমুদিয়া মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীর সাফল্য বান্দরবানে বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ওয়ার্ল্ড ভিশন-গ্রাউসের প্রকল্প অবহিতকরণ সভা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার বির্তরকিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রোমান হাওলাদার গাজীপুরের টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন পাঁচবিবিতে অটোচালককে গলা কেটে হত্যা, অটো উধাও

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা: বিদ্যুৎহীন ১০ লাখ বাড়ি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও শিল্প অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতের বেলা চালানো ওই হামলায় ১০ লাখের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ইগর ক্লিমেনকো বলেছেন, পাঁচটি অঞ্চলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আগুন নেভানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলা সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। তবে দেশটিতে শীত মৌসুম শুরুর এই সময়ে মস্কো বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা আরও তীব্র করেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আরও আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত এই সপ্তাহান্তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে জার্মানি যাচ্ছেন।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছেন স্টিভ উইটকফ। তিনি বার্লিনে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করবেন।

আজ শনিবার জেলেনস্কি বলেছেন, শুক্রবার রাতের হামলায় রাশিয়া ৪৫০টির বেশি ড্রোন এবং ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লিমেনকো জানান, নিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিরোভোহরাদ, মাইকোলাইভ, ওদেসা ও চেরনিহিভ অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হামলায় কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা ওড়ার মধ্যে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হওয়ায় ট্র্যাক করা কঠিন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ গ্রিডে ব্যাপক সামরিক হামলার কারণে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অস্থায়ীভাবে বাইরের সব বিদ্যুৎ–সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তবে এখন আবার সরবরাহ শুরুর চেষ্টা চলছে।

কেন্দ্রটি ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অবস্থিত। এটি বর্তমানে চালু না থাকলেও চুল্লিগুলো ঠান্ডা রাখার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে রাশিয়ার আঞ্চলিক গভর্নর রোমান বুসারগিন বলেছেন, সারাতোভে ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুজন নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন বড়দিনের আগেই যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে চুক্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে তারা ইউক্রেন ও রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা করেছে। তবে শিগগির সমাধানের লক্ষণ খুব কমই দেখা যাচ্ছে।

জার্মানির বার্লিনের এই আলোচনায় কোন কোন ইউরোপীয় নেতা উপস্থিত থাকবেন, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।

ইউক্রেন ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার সংশোধিত সংস্করণ যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার পরই উইটকফ-জেলেনস্কি বৈঠক হচ্ছে। এই প্রস্তাবের বিষয় নভেম্বরের শেষের দিকে প্রথম সামনে আসে। এর ফলে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

আলোচনায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল নিয়ে সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে। মস্কো বলছে, ইউক্রেন সরে না গেলে দনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বলপূর্বক দখল করে নেবে তারা।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা: বিদ্যুৎহীন ১০ লাখ বাড়ি

আপডেট টাইম : ০৩:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও শিল্প অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতের বেলা চালানো ওই হামলায় ১০ লাখের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ইগর ক্লিমেনকো বলেছেন, পাঁচটি অঞ্চলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আগুন নেভানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলা সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। তবে দেশটিতে শীত মৌসুম শুরুর এই সময়ে মস্কো বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা আরও তীব্র করেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আরও আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত এই সপ্তাহান্তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে জার্মানি যাচ্ছেন।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছেন স্টিভ উইটকফ। তিনি বার্লিনে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করবেন।

আজ শনিবার জেলেনস্কি বলেছেন, শুক্রবার রাতের হামলায় রাশিয়া ৪৫০টির বেশি ড্রোন এবং ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লিমেনকো জানান, নিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিরোভোহরাদ, মাইকোলাইভ, ওদেসা ও চেরনিহিভ অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হামলায় কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা ওড়ার মধ্যে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হওয়ায় ট্র্যাক করা কঠিন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ গ্রিডে ব্যাপক সামরিক হামলার কারণে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অস্থায়ীভাবে বাইরের সব বিদ্যুৎ–সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তবে এখন আবার সরবরাহ শুরুর চেষ্টা চলছে।

কেন্দ্রটি ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অবস্থিত। এটি বর্তমানে চালু না থাকলেও চুল্লিগুলো ঠান্ডা রাখার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে রাশিয়ার আঞ্চলিক গভর্নর রোমান বুসারগিন বলেছেন, সারাতোভে ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুজন নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন বড়দিনের আগেই যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে চুক্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে তারা ইউক্রেন ও রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা করেছে। তবে শিগগির সমাধানের লক্ষণ খুব কমই দেখা যাচ্ছে।

জার্মানির বার্লিনের এই আলোচনায় কোন কোন ইউরোপীয় নেতা উপস্থিত থাকবেন, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।

ইউক্রেন ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার সংশোধিত সংস্করণ যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার পরই উইটকফ-জেলেনস্কি বৈঠক হচ্ছে। এই প্রস্তাবের বিষয় নভেম্বরের শেষের দিকে প্রথম সামনে আসে। এর ফলে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

আলোচনায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল নিয়ে সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে। মস্কো বলছে, ইউক্রেন সরে না গেলে দনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বলপূর্বক দখল করে নেবে তারা।


প্রিন্ট