ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর গাজীপুরে ব্রি পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার উদ্যোগে খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ সড়ক, নৌ ও রেলমন্ত্রী’র সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ বারিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় ও রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধন নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ৩ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা, ভিমরুলী পেয়ারাবাগানে একের পর এক দুর্ঘটনা: কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আব্দুল্লাহ আল শাফী |
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও আজ থেকে ঢাকা দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হলো। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের বাকী অংশে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল আজ রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর নগর ভবন অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে যদি আমরা সফলভাবে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই আমরা এই আত্মঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পাব। তিনি প্রতিটি অলি-গলিতে এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

তবে হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রিত হলেও সামনে ডেঙ্গুর বড় চ্যালেঞ্জ আসছে বলে সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনেই ডেঙ্গুর একটি ধাক্কা আসতে পারে। আমরা দুই-তিন দিন আগেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।

মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক মিশ্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ওষুধের মান ঠিক থাকলে তবেই পূর্ণবয়স্ক মশা মারা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের বিস্তার রোধে আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিকে একটি আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যকর্মীর পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ রিপ্রেজেন্টেটিভ আহমেদ জামশেদ মোহামেদ, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল অ্যাব্রিউক্স। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ করে এ বিষয়টা (হামের প্রাদুর্ভাব) এসেছে এমন নয়। বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণে আজকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এমআর টিকা পাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার- চালানো হচ্ছে। অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর

সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৩:১৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আব্দুল্লাহ আল শাফী |
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও আজ থেকে ঢাকা দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হলো। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের বাকী অংশে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল আজ রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর নগর ভবন অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে যদি আমরা সফলভাবে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই আমরা এই আত্মঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পাব। তিনি প্রতিটি অলি-গলিতে এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

তবে হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রিত হলেও সামনে ডেঙ্গুর বড় চ্যালেঞ্জ আসছে বলে সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনেই ডেঙ্গুর একটি ধাক্কা আসতে পারে। আমরা দুই-তিন দিন আগেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।

মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক মিশ্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ওষুধের মান ঠিক থাকলে তবেই পূর্ণবয়স্ক মশা মারা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের বিস্তার রোধে আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিকে একটি আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যকর্মীর পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ রিপ্রেজেন্টেটিভ আহমেদ জামশেদ মোহামেদ, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল অ্যাব্রিউক্স। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ করে এ বিষয়টা (হামের প্রাদুর্ভাব) এসেছে এমন নয়। বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণে আজকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এমআর টিকা পাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার- চালানো হচ্ছে। অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


প্রিন্ট