ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মুন্সীগঞ্জে আগস্ট মাসের শ্রেষ্ঠ ওসি সিরাজদিখান থানার আলাউদ্দিন গাজীপুরে সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ: ৫ বছরের প্রেমের পরিণতি, প্রেমিকের হাতে খুন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা- সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হবে: প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ ফায়দাবাদে ফার্নিচার কারখানায় বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বিয়ের এক মাসের মাথায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে গেলেন স্বামী রাজধানীর শ্যামলীতে রাজ্জাক ইন আবাসিক হোটেলে রমরমা মাদক ও দেহব্যবসা! ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের রেল লাইন নির্মাণ কাজ বন্ধের পাঁয়তারা! মির্জাগঞ্জে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নজরুল সভাপতি, আব্দুর রব সেক্রেটারি পাবনায় ধর্ষক জহুরুলের শাস্তি ও ওসি তারিকুলের অপসারণের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাজধানীর মিরপুরে নিউ লন্ডন প্যালেস আবাসিক হোটেলে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক ও দেহব্যবসা!

ফায়দাবাদে ফার্নিচার কারখানায় বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

আব্দুল্লাহ আল মোমিন |
ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ চৌরাস্তা এলাকায় ছাপরা মসজিদের পাশে জনবসতিপূর্ণ স্থানে একটি ফার্নিচার কারখানায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রশিদ নামে এক ব্যক্তি পরিচালিত ওই কারখানায় ফার্নিচার তৈরি ও পলিশের কাজে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটি মসজিদের সীমানা ঘেঁষে এবং আবাসিক এলাকার মধ্যে হওয়ায় রাসায়নিকের গন্ধ, ধোঁয়া ও বর্জ্য নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, ফার্নিচারে রং ও পলিশের কাজে থিনার, স্পিরিট, টারপিন, ইউরিয়া-ফরমালডিহাইডযুক্ত আঠা এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হয়। এসব পদার্থ যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া ব্যবহৃত হলে বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কারখানার আশপাশে দীর্ঘ সময় ধরে রাসায়নিকের গন্ধ ও ধোঁয়া অনুভূত হয়। এতে চোখ জ্বালাপোড়া, কাশি, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে এসব স্বাস্থ্যগত অভিযোগের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা প্রয়োজন।

মালিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও অভিযোগঃ

এদিকে কারখানার মালিক রশিদের ব্যক্তিগত আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে একটি বাসা থেকে সন্দেহজনক অবস্থায় বের হতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা ওই বাসায় থাকা এক নারীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান।
তবে ওই ঘটনার সত্যতা ও এর সঙ্গে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারখানা পরিচালনা ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মালিক রশিদের বক্তব্যও প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও মসজিদের পাশে কারখানাটি পরিচালনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না—তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জে আগস্ট মাসের শ্রেষ্ঠ ওসি সিরাজদিখান থানার আলাউদ্দিন

ফায়দাবাদে ফার্নিচার কারখানায় বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট টাইম : ০১:৫৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আব্দুল্লাহ আল মোমিন |
ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ চৌরাস্তা এলাকায় ছাপরা মসজিদের পাশে জনবসতিপূর্ণ স্থানে একটি ফার্নিচার কারখানায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রশিদ নামে এক ব্যক্তি পরিচালিত ওই কারখানায় ফার্নিচার তৈরি ও পলিশের কাজে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটি মসজিদের সীমানা ঘেঁষে এবং আবাসিক এলাকার মধ্যে হওয়ায় রাসায়নিকের গন্ধ, ধোঁয়া ও বর্জ্য নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, ফার্নিচারে রং ও পলিশের কাজে থিনার, স্পিরিট, টারপিন, ইউরিয়া-ফরমালডিহাইডযুক্ত আঠা এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হয়। এসব পদার্থ যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া ব্যবহৃত হলে বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কারখানার আশপাশে দীর্ঘ সময় ধরে রাসায়নিকের গন্ধ ও ধোঁয়া অনুভূত হয়। এতে চোখ জ্বালাপোড়া, কাশি, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে এসব স্বাস্থ্যগত অভিযোগের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা প্রয়োজন।

মালিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও অভিযোগঃ

এদিকে কারখানার মালিক রশিদের ব্যক্তিগত আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে একটি বাসা থেকে সন্দেহজনক অবস্থায় বের হতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা ওই বাসায় থাকা এক নারীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান।
তবে ওই ঘটনার সত্যতা ও এর সঙ্গে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারখানা পরিচালনা ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মালিক রশিদের বক্তব্যও প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও মসজিদের পাশে কারখানাটি পরিচালনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না—তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রিন্ট