ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর গাজীপুরে ব্রি পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার উদ্যোগে খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ সড়ক, নৌ ও রেলমন্ত্রী’র সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ বারিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় ও রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধন নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ৩ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা, ভিমরুলী পেয়ারাবাগানে একের পর এক দুর্ঘটনা: কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

কাজ না করেই তিন অর্থবছরে বরাদ্দ উত্তোলন

মোঃ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড়-
কোনো কাজ না করেই গত তিন অর্থবছরে দেওয়া বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে পঞ্চগড় জেলা পরিষদে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থ উত্তোলন করে পরিষদের হিসাব নম্বরে রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রাধান্য, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি, প্রকল্প বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্ততা না থাকা, সম্ভাব্যতা যাচাই না করে প্রকল্প প্রণয়নসহ নান অনিয়ম রয়েছে এ পরিষদের। স্থানীয়রা পুনরায় প্রকল্পের স্ক্রীম নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২২ সালে জেলা পরিষদের নির্বাচনে এ জেলায় আব্দুল হান্নান শেখ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দে ৩৯১টি স্ক্রীম, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৪ কোটি ৬০ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দে ৩৩৩টি স্ক্রীম গ্রহণ করে অর্ধেক দরপত্রের মাধ্যমে অর্ধেক পিআইসি কমিটির নামে বরাদ্দ দিয়ে অনুমোদিত হয়। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী কাজ হয়েছে পঞ্চাশ শতাংশের কম। এদিকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের এডিপি সাধারণ বরাদ্দের ছয় কোটি ২৫ লাখ টাকার বিপরীতে ৪১০টি প্রকল্পের স্ক্রীম অনুমোদন হয়েছে চলতি বছরের জুলাই মাসে। কাজ এ পর্যন্ত শুরু করতে পারেনি দপ্তরটি।

বৈষম্যবিরোধী নাগরিক সমাজ কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আজহারুল ইসলাম জুয়েল জানান,গত অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দের প্রকল্প রাজনৈতিক বিবেচনায় স্ক্রীম নিয়ে অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। এজন্য এ প্রকল্পের স্ক্রীম বাতিল করে পুনরায় স্ক্রীম গ্রহনের দাবি জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের এক কর্মচারি জানান, আব্দুল হান্নান শেখ চেয়ারম্যান থাকাকালে নিজের নামের স্কুলে বার বার বরাদ্দ নিয়েছেন। জেলা পরিষদের সদস্য আখতারুন নাহার সাকীর নিজস্ব তিনটি প্রতিষ্ঠানে দিয়েছেন ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ।

কহরুহাট বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মোমিন বলেন, এক লাখ টাকার প্রকল্প দিয়েছে। পঞ্চাশ হাজার টাকা অনেক আগে তুলে কাজ করেছি। তারপর থেকে বার বার গিয়েছি পরিষদে। কিন্তু বাকী টাকা দিবে দিবে করছে, এখনো দিচ্ছে না।

অপসারিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান শেখ জানান, প্রকল্পের অর্ধেক টাকা নিয়ে কাজ করার পর বাকী বিল তোলার নিয়ম। হয়ত কাজ করতে পারেনি, টাকা নেয়নি। নামে-বেনামে প্রকল্প দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন- আমি শুধু একটা স্বাক্ষর করি। এর থেকে বেশী কিছু জানি না।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর

কাজ না করেই তিন অর্থবছরে বরাদ্দ উত্তোলন

আপডেট টাইম : ০৮:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪

মোঃ বাবুল হোসেন, পঞ্চগড়-
কোনো কাজ না করেই গত তিন অর্থবছরে দেওয়া বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে পঞ্চগড় জেলা পরিষদে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থ উত্তোলন করে পরিষদের হিসাব নম্বরে রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রাধান্য, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি, প্রকল্প বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্ততা না থাকা, সম্ভাব্যতা যাচাই না করে প্রকল্প প্রণয়নসহ নান অনিয়ম রয়েছে এ পরিষদের। স্থানীয়রা পুনরায় প্রকল্পের স্ক্রীম নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২২ সালে জেলা পরিষদের নির্বাচনে এ জেলায় আব্দুল হান্নান শেখ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দে ৩৯১টি স্ক্রীম, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৪ কোটি ৬০ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দে ৩৩৩টি স্ক্রীম গ্রহণ করে অর্ধেক দরপত্রের মাধ্যমে অর্ধেক পিআইসি কমিটির নামে বরাদ্দ দিয়ে অনুমোদিত হয়। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী কাজ হয়েছে পঞ্চাশ শতাংশের কম। এদিকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের এডিপি সাধারণ বরাদ্দের ছয় কোটি ২৫ লাখ টাকার বিপরীতে ৪১০টি প্রকল্পের স্ক্রীম অনুমোদন হয়েছে চলতি বছরের জুলাই মাসে। কাজ এ পর্যন্ত শুরু করতে পারেনি দপ্তরটি।

বৈষম্যবিরোধী নাগরিক সমাজ কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আজহারুল ইসলাম জুয়েল জানান,গত অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দের প্রকল্প রাজনৈতিক বিবেচনায় স্ক্রীম নিয়ে অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। এজন্য এ প্রকল্পের স্ক্রীম বাতিল করে পুনরায় স্ক্রীম গ্রহনের দাবি জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের এক কর্মচারি জানান, আব্দুল হান্নান শেখ চেয়ারম্যান থাকাকালে নিজের নামের স্কুলে বার বার বরাদ্দ নিয়েছেন। জেলা পরিষদের সদস্য আখতারুন নাহার সাকীর নিজস্ব তিনটি প্রতিষ্ঠানে দিয়েছেন ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ।

কহরুহাট বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মোমিন বলেন, এক লাখ টাকার প্রকল্প দিয়েছে। পঞ্চাশ হাজার টাকা অনেক আগে তুলে কাজ করেছি। তারপর থেকে বার বার গিয়েছি পরিষদে। কিন্তু বাকী টাকা দিবে দিবে করছে, এখনো দিচ্ছে না।

অপসারিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান শেখ জানান, প্রকল্পের অর্ধেক টাকা নিয়ে কাজ করার পর বাকী বিল তোলার নিয়ম। হয়ত কাজ করতে পারেনি, টাকা নেয়নি। নামে-বেনামে প্রকল্প দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন- আমি শুধু একটা স্বাক্ষর করি। এর থেকে বেশী কিছু জানি না।


প্রিন্ট