ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের’ নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের পর গোলাম রব্বানীর হুমকির সম্মুখিন ভুক্তভোগীরা প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতারণা সিরাজদীখানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমান বাউবিতে সশস্ত্র বাহিনীর সাথে নিশ-১ প্রোগ্রামের সমন্বয় সেলের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত কালাইয়ে ৫০৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ আরিফ উল্লাহ বিরুদ্ধে বান্দরবান পৌরসভার ২০ বছরের মহাপরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন বাংলাদেশ ফ্যাশন রানওয়ে উইক ২০২৬ অনুষ্ঠিত মহম্মদপুরে আগুনে পুড়ে সর্বস্ব হারিয়ে বাকরুদ্ধ বিধবা ঝর্না বেগম মির্জাগঞ্জের প্রবীন সাংবাদিক মরহুম আঃ মান্নান মিয়া এর ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী

মাগুরা-২ থেকে রাজনীতি ও নির্বাচনকে বিদায় জানালেন সাবেক এমপি কাজী সালিমুল

মোঃ রনি আহমেদ রাজু-
মাগুরা-২ (মহম্মদপুর–শালিখা–সদরের চার ইউনিয়ন) সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সালিমুল হক কামাল সক্রিয় রাজনীতি এবং ভবিষ্যতের সব ধরনের নির্বাচন থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১২টার পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত বছর কারাবাসে তার পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারের একান্ত অনুরোধে তিনি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন। জীবনের বাকি সময় পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে কাটাতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাগুরা-২ আসনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কাজী সালিমুল হক কামাল বলেন, ২০০৮ সালের পর রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে থাকলেও ২০১৭ সালে একটি মিথ্যা মামলায় তাকে কারাবরণ করতে হয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর ২২ আগস্ট তিনি কারামুক্ত হন।

মুক্তির পর মহম্মদপুর, আড়পাড়া, সিংড়া ও শত্রুজিৎপুরে কয়েকটি সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও বেদনার চিত্র দেখেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দলের হাইকমান্ডের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর মামলা, হামলা ও নির্যাতন সহ্য করে যারা বিএনপির পতাকা আগলে রেখেছেন, তৃণমূলের সেই নেতা-কর্মীদের আবেগ ও ত্যাগের কোনো মূল্য আছে কি না সে প্রশ্ন থেকেই যায়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ঘোষণার পর তৃণমূল পর্যায়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার ফল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, মাগুরা-২ আসনের ৫১৩ জন দায়িত্বশীল নেতার মধ্যে ৫০১ জন, ১৯টি ইউনিয়নের ১৮ জন সাবেক চেয়ারম্যান এবং দুইজন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লিখিতভাবে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তবুও তৃণমূলের আপত্তি আমলে না নেওয়ায় মাঠপর্যায়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের সামনে রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কর্মীদের চোখের পানি কখনও দলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না।

উল্লেখ্য, কাজী সালিমুল হক কামাল ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুজ্জামান বাচ্চুকে পরাজিত করেন। ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি কারামুক্ত হন।

তার অবসর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মাগুরা-২ আসনের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে কর্মীদের চোখের পানি কখনও দলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের’ নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের পর গোলাম রব্বানীর হুমকির সম্মুখিন ভুক্তভোগীরা

মাগুরা-২ থেকে রাজনীতি ও নির্বাচনকে বিদায় জানালেন সাবেক এমপি কাজী সালিমুল

আপডেট টাইম : ০২:২১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ রনি আহমেদ রাজু-
মাগুরা-২ (মহম্মদপুর–শালিখা–সদরের চার ইউনিয়ন) সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সালিমুল হক কামাল সক্রিয় রাজনীতি এবং ভবিষ্যতের সব ধরনের নির্বাচন থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১২টার পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত বছর কারাবাসে তার পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারের একান্ত অনুরোধে তিনি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন। জীবনের বাকি সময় পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে কাটাতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাগুরা-২ আসনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কাজী সালিমুল হক কামাল বলেন, ২০০৮ সালের পর রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে থাকলেও ২০১৭ সালে একটি মিথ্যা মামলায় তাকে কারাবরণ করতে হয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর ২২ আগস্ট তিনি কারামুক্ত হন।

মুক্তির পর মহম্মদপুর, আড়পাড়া, সিংড়া ও শত্রুজিৎপুরে কয়েকটি সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও বেদনার চিত্র দেখেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দলের হাইকমান্ডের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর মামলা, হামলা ও নির্যাতন সহ্য করে যারা বিএনপির পতাকা আগলে রেখেছেন, তৃণমূলের সেই নেতা-কর্মীদের আবেগ ও ত্যাগের কোনো মূল্য আছে কি না সে প্রশ্ন থেকেই যায়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ঘোষণার পর তৃণমূল পর্যায়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার ফল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, মাগুরা-২ আসনের ৫১৩ জন দায়িত্বশীল নেতার মধ্যে ৫০১ জন, ১৯টি ইউনিয়নের ১৮ জন সাবেক চেয়ারম্যান এবং দুইজন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লিখিতভাবে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তবুও তৃণমূলের আপত্তি আমলে না নেওয়ায় মাঠপর্যায়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের সামনে রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কর্মীদের চোখের পানি কখনও দলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না।

উল্লেখ্য, কাজী সালিমুল হক কামাল ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুজ্জামান বাচ্চুকে পরাজিত করেন। ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি কারামুক্ত হন।

তার অবসর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মাগুরা-২ আসনের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে কর্মীদের চোখের পানি কখনও দলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।


প্রিন্ট