ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর গাজীপুরে ব্রি পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার উদ্যোগে খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ সড়ক, নৌ ও রেলমন্ত্রী’র সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ বারিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় ও রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধন নদী ভাঙ্গনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ: নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রান্তে ১’শ বছরের মসজিদ এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ৩ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা, ভিমরুলী পেয়ারাবাগানে একের পর এক দুর্ঘটনা: কঠোর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা: র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক |
সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোঃ তারেক সরকার (৪০) ও তার সহযোগী মোঃ পলাশ কবির (৪২)-কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, নরসিংদী সদর এলাকার বাসিন্দা মোঃ তারেক সরকার গত প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

তদন্তে জানা যায়, তারেক সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চাকুরিচ্যুত সদস্য। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং সেখানে প্রায় ১৪ বছর কর্মরত ছিলেন। পরে বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও চাকরিচ্যুত হন।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা, প্রশাসনিক কাঠামো ও বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেই তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।

প্রতারণার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে ব্যবহৃত ও তথাকথিত ‘ভিআইপি’ মোবাইল সিম সংগ্রহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে সরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি দিয়ে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। এরপর ওই পরিচয়ে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে চাকরি নিয়োগে প্রভাব বিস্তার ও সুপারিশের নামে প্রতারণা চালাতেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার স্বীকার করেছেন, তিনি গত প্রায় ছয় বছর ধরে এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এবং এভাবে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর র‍্যাব বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখ নরসিংদী সদরের সঙ্গীতা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে একটি বাঁধাই করা ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ছবি ফটোশপের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এসব ছবি ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।
তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সহযোগী হিসেবে মোঃ পলাশ কবিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

পরে র‍্যাবের আরেকটি দল ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ মে ২০২৬ তারিখ তাকে আলামতসহ গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও bKash এর চুক্তি স্বাক্ষর

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা: র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ২

আপডেট টাইম : ০৪:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক |
সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোঃ তারেক সরকার (৪০) ও তার সহযোগী মোঃ পলাশ কবির (৪২)-কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, নরসিংদী সদর এলাকার বাসিন্দা মোঃ তারেক সরকার গত প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

তদন্তে জানা যায়, তারেক সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চাকুরিচ্যুত সদস্য। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং সেখানে প্রায় ১৪ বছর কর্মরত ছিলেন। পরে বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও চাকরিচ্যুত হন।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা, প্রশাসনিক কাঠামো ও বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেই তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।

প্রতারণার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে ব্যবহৃত ও তথাকথিত ‘ভিআইপি’ মোবাইল সিম সংগ্রহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে সরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি দিয়ে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। এরপর ওই পরিচয়ে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে চাকরি নিয়োগে প্রভাব বিস্তার ও সুপারিশের নামে প্রতারণা চালাতেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার স্বীকার করেছেন, তিনি গত প্রায় ছয় বছর ধরে এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এবং এভাবে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর র‍্যাব বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখ নরসিংদী সদরের সঙ্গীতা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে একটি বাঁধাই করা ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ছবি ফটোশপের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এসব ছবি ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।
তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সহযোগী হিসেবে মোঃ পলাশ কবিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

পরে র‍্যাবের আরেকটি দল ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ মে ২০২৬ তারিখ তাকে আলামতসহ গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে।


প্রিন্ট